Text size A A A
Color C C C C
পাতা

কী সেবা কীভাবে পাবেন

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা এর আওতায় যে সকল সেবাসমূহ পাওয়া যাবে তা নিম্নরুপঃ

 

১) মূল কর্মসূচী (কৃষক সমবায় সমিতি) ঃ নতুন কোন কৃষক সমবায় সমিতি গঠন করতে হলে কোন একটি গ্রামের কমপক্ষে ২০ জন সদস্যকে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা বরাবরে আবেদন করতে হবে। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে সদস্যদের জরিপ কাজ সম্পন্ন করে সদস্য যাচাই বাছাই করে সমিতি গঠন করা হবে। তারপর নিদিষ্ট পরিমান টাকা শেয়ার ও সঞ্চয় বাবদ সোনালী ব্যাংক লিঃ, শ্যামনগর শাখায় সমিতির পক্ষ খেকে জমা দেয়ার পর উক্ত সমিতির নিবন্ধনের জন্য সমবায় অফিস শ্যামনগর, সাতক্ষীরাতে প্রেরণ করা হবে। সমবায় অফিস থেকে নিবন্ধিত হওয়ার পর সমিতির শেয়ার সঞ্চয় জমা ও ঋণ কার্যক্রম শুরু হবে।চলমান সমিতিতে কোন নতুন সদস্য ভর্তি হতে হলে উক্ত সমিতির ক্যাচমেন্ট এলাকার মধ্যে সদস্যের স্হায়ী বাড়ি ও সম্পত্তি থাকতে হবে। নতুন সদস্য হতে হলে সমিতির কার্যকরী কমিটির নিকট আবেদন করতে হবে। কার্যকরী কমিটি তাদের মাসিক সভায় নতুন সদস্য ভর্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজুলেশনের কপি উপজেলা বিআরডিবি অফিসে প্রেরণ করবে। ইউসিসিএ তে উক্ত সদস্য ভর্তির বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে উক্ত সদস্য ৫ (পাচ) টাকা ভর্তি ফি জমা দিয়ে কৃসক সমবায় সমিতির সদস্যপদ লাভ করতে পারবে।

 

২) মহিলা উন্নয়ন অনুবিভাগ (মহিলা সমবায় সমিতি) ঃগ্রামের হতদরিদ্র, দুঃস্থ, স্বামী পরিত্যক্তা ও বেকার মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মূল কর্মসূচীর ন্যায় একই প্রক্রিয়ায় মহিলা সমবায় সমিতির সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে।

 

৩) সমন্বিত দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী (সদাবিক) ঃ এ প্রকল্পের আওতায় একটি ক্যাচমেন্ট এলাকার  ২০-৩০ জন পুরুষ ও মহিলাদের নিয়ে অনানুষ্ঠানিক দল গঠন করা হয়। দলটিকে ন্যনতম ৬ মাস অবজারভেশনে রাখা হয়। দলের সদস্যরা নিয়মিত সাপ্তাহিক সঞ্চয় জমা করার পর তাদের কার্যক্রম সন্তোষজনক হলে দলের সদস্যদের বার্ষিক ১১% হারে সাপ্তাহিক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য ঋণ প্রদান করা হয়।

 

৪) পল্লী প্রগতি প্রকল্পঃ এ প্রকল্পটি শ্যামনগর উপজেলার ২ নং কাশিমাড়ী ইউনিয়নে চলমান আছে। এ প্রকল্পের ৫ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা কমিটির সম্মানিত সভাপতি হলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। থানার অফিসার-ইন-চার্জ একজন সম্মানিত সদস্য। প্রকল্পের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসারের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হয়। এ প্রকল্পের সঞ্চয় ও ঋণ কার্যক্রম সদাবিক এর ন্যায় একইভাবে সম্পাদিত হয়ে থাকে।

 

৫) একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের প্রকল্প একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। এ প্রকল্পটি বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের ৩৬ টি ওয়ার্ড এর ৩৬ টি গ্রামে (প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম) বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিটি গ্রামের ৪০ জন মহিলা ও ২০ জন পুরুষ সর্বমোট ৬০ জন উপকারভোগী সদস্য আছে। প্রত্যেক সদস্য সাপ্তাহিক ৫০ টাকা মাসিক ২০০ টাকা হারে বছরে ২৪০০ টাকা সঞ্চয় জমা দিলে প্রকল্প হতে সমপরিমান ২৪০০ টাকা উৎসাহ সঞ্চয় বোনাস প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রতিটি সমিতিতে বছরে ১৫০০০০ (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ) ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিল প্রদান করা হয়। উপকারভোগীদের সঞ্চয়, উৎসাহ সঞ্চয় ও ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিলের টাকা থেকে উপকারভোগীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য বার্ষিক ৮% হারে ঋণ প্রদান করা হয়। বর্তমানে অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে সঞ্চয় জমা, উৎসাহ সঞ্চয় বোনাস প্রদান ও যাবতীয় ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রকল্পের উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

 

এক নজরে একটি বাড়ি একটি খামারঃ

 

প্রকল্পের নামঃ একটি বাড়ি একটি খামার।

উদ্যোগী মন্ত্রণালয়/বিভাগঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর অধীন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ।

 

বাস্তবায়নকারী সংস্থাঃ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ।

 

কর্মসূচীর মেয়াদঃ জুলাই ২০০৯ হতে জুন ২০১৩ পর্যন্ত সরকারী অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। জুলাই ২০১৩ থেকে জুন    ২০১৬ পর্যন্ত প্রকল্পের ২য় পর্যায় গ্রহন ও বাস্তবায়ন শেষে বিআরডিবি’র ব্যবস্থাধীনে  অথবা একটি স্বতন্ত্র পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচী ফাউন্ডেশন ‍হিসেবে বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।

 

প্রকল্পের কর্ম এলাকাঃ

 

প্রথম মেয়াদে শ্যামনগর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৩৬ টি ওয়ার্ডের ৩৬ টি গ্রাম ( জুলাই ২০০৯ হতে জুন ২০১৩ পর্যন্ত)

প্রকল্পের সম্প্রসারিত মেয়াদ জুলাই ২০১৩ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদে শ্যামনগর উপজেলার বাকী ৮টি ইউনিয়নের ৭২ টি ওয়ার্ডের ৭২টি গ্রাম।

 

প্রকল্পের লক্ষ্যঃ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য প্রতিটি পরিবারকে মানব ও অর্থনৈতিক সম্পদের  সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই আর্থিক কার্যক্রমের একক হিসেব গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালের মধ্যে জাতীয় দারিদ্র ২০% এ নামিয়ে আনা।

 

প্রকল্পের উদ্দেশ্য সমূহঃ

# প্রথম পর্যায়ে শ্যামনগর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ( ভুরুলিয়া, শ্যামনগর সদর, ঈশ্বরীপুর ও নুরনগর) প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি গ্রাম হিসেবে ৪*৯=৩৬টি গ্রামের ২১৬০ টি দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত করা এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১২*৯=১০৮ টি ওয়ার্ডের ১০৮  টি গ্রামের  ১০৮ * ৬০= ৬৪৮০ টি পরিবারকে গ্রাম সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

 

# ২০১৬ সালের মধ্যে প্রকল্পাধীন সকল গ্রামের প্রতিটি পরিবারকে কৃষি, মৎস্যচাষ, গবাদি পশুপালন ইত্যাদি আয়বর্ধক মূলক কাজের মা্ধ্যমে একটি কার্যকর “ খামার বাড়ি ” হিসেবে গড়ে তোলা।

 

# ২০১৬ সালের মধ্যে প্রকল্পাধীন প্রতি গ্রাম থেকে ৫ জন করে ( কৃষি, পশুপালন, হাস-মুরগী পালন, মৎস্য চাষ, বৃক্ষ নার্সারী ও হর্টিকালচার ট্রেডের প্রতি বিষয়ে একজন) মোট ৫৪০ জন সমিতি ভুক্ত সদস্যকে জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে খামার স্বেচ্ছাসেবী গঠন করা এবং অন্যান্য বিষয়ে গ্রামকর্মী সৃজন করা।

 

# ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে ঋণ সহায়তার মাধ্যমে নিজে / সদস্যদের নিয়ে প্রতি গ্রামে ৫টি করে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষিত কর্মীদের বাড়ীতে মোট ৫৪০ টি প্রদর্শণী খামার শ্যামনগর উপজেলায় গড়ে তোলা।

 

# ২০১৩ সালের মধ্যে প্রকল্প থেকে গ্রাম সংগঠনের অতিদরিদ্র/ দরিদ্র সদস্যদের সাপ্তাহিক     ৫০/- টাকা হারে মাসিক ২০০/- টাকা হিসেবে ১ বছরে ২০০৮১২=২৪০০/- টাকা সঞ্চয় জমার বিপরীতে সরকারি উৎসাহ বোনাস ২০০/- টাকা হিসেবে ২০০৮১২=২৪০০/- টাকা জমার মাধ্যমে পরিবারের ব্যক্তি সঞ্চয় বছরে ন্যূনতম ৫,০০০০/- টাকায় উন্নীত করা যা ২ বছরে ১০,০০০/- টাকায় উন্নীত হবে। পাশাপাশি ব্যক্তি সঞ্চয়+উৎসাহ সঞ্চয়+ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিল সমিতি প্রতি বছরে ১,৫০,০০০/- টাকা হিসেবে ১ বছর শেষে  মোট সমিতি তহবিল দাড়াবে ৪,৫০,০০০/- টাকা যা ২ বছরে ৯,০০,০০০/- টাকায় উন্নীত হবে। উক্ত টাকা সমিতির ৬০ জন  সদস্যদের মাঝে ঘূর্ণায়মান ঋণ হিসেবে বার্ষিক ৫% সেবামূল্যের ভিত্তিতে আবর্তিত হতে থাকবে।

 

# প্রধান কৃষি ফসলের পাশাপাশি আদা, হলুদ, পিয়াজ, রসূন, জিরা, মসলা বিভিন্ন ফল এবং অন্যান্য অপ্রধান কৃষি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রতিটি বাড়ি সংশ্লিষ্ট জমি ব্যবহার করা।

 

প্রকল্পের সদস্য নির্বাচনঃ প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একটি করে গ্রাম নিয়ে সমিতি গঠন করা হয়। সেহেতু প্রতিটি ওয়ার্ডে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মাইকিং করে  স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সকল ধরনের জনগনকে সদস্য  নির্বাচনের বিষয়ে অবহিত করণ। একটি নির্দিষ্ট দিনে বা তারিখে ইউনিয়ন পরিষদে সকল ওয়ার্ডের নির্বাচিত গ্রামের জনগনের উপস্থিতিতে উপকারভোগীদের মানদন্ডের ভিত্তিতে প্রতিটি গ্রাম হতে ৪০ জন মহিলা ও ২০ জন পুরুষ সর্বমোট ৬০ জন সদস্য বাছাই করতে হবে। প্রতিটি সমিতিতে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি থাকবে।

 

# উপকারভোগী নির্বাচনের মানদন্ডঃ

ক) গরিব পরিবার ( মহিলা পরিবার প্রধানঃ ০ থেকে .৫০ একর ভুমি মালিক)

খ) গরিব পরিবার ( ০.৩০ একর এর নিচে জমির মালিক)

গ) গরিব পরিবার ( সর্বোচ্চ .৫০ একর জমির মালিক)

ঘ) চরাঞ্চলে গরিব পরিবার ( সর্বোচ্চ ১.০০ একর জমির মালিক)

বর্ণিত সকল ক্ষেত্রে শহীদ পরিবার, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, আহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।

 

 

৬) অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পোষ্যদের আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচীঃ এ প্রকল্পের আওতায় অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পোষ্যদের বার্ষিক ৮% হারে ঋণ প্রদান করা হয়। এ প্রকল্পের উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

 

৭) অংশীদারিত্বমূলক পল্লী  উন্নয়ন প্রকল্প-২ ( পিআরডিপি-২)ঃ বর্তমানে এ প্রকল্পটি শ্যামনগর উপজেলার রমজনানগর ও কৈখালী ইউনিয়নে চলমান আছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৭৫০০০ (পচাত্তর হাজার) টাকার মধ্যে স্কীম গ্রহন করে গ্রামের রাস্তাঘাট, ছোট কালভার্ট, ঈদগাহ, মন্দির সংস্কার, কবরস্থান, শ্মশানঘাট ইত্যাদি সংস্কার ও নির্মান করা হয়। ৭৫,০০০/- টাকার মধ্যে প্রকল্প খেকে ৭০% ভাগ, গ্রামের উপকারভোগীরা দিবে ২০% এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ১০% ব্যয় নির্বাহ করবে।এছাড়াও  উপকারভোগীদের নিয়মিত বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।